You are here
নীড়পাতা > সংবাদ > খেলাধুলা > এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপ: প্রথম ম্যাচ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী বাংলার মেয়েরা

এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপ: প্রথম ম্যাচ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী বাংলার মেয়েরা

এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ মহিলা চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথমবারের মতো খেলছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচেই তাঁদের প্রতিপক্ষ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়া। থাইল্যান্ডের চনবুরি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টায় শুরু হয়ছে খেলা।

বিকেলে চনবুরির সিরিনধর্ন স্টেডিয়ামে অনুশীলন সেরেছে বাংলাদেশ দল।

ফুটবল-ঐতিহ্য আর সাফল্যের পরিসংখ্যানে অনেক এগিয়ে উত্তর কোরিয়া। ফিফা র‌্যাংকিংয়ে উত্তর কোরিয়া জাতীয় মহিলা দল ১০ নম্বর। বাংলাদেশের র‌্যাংকিং ১০৬। চারবার বিশ্বকাপে খেলেছে উত্তর কোরিয়া। এশিয়ান কাপ ও এশিয়ান গেমসেও তিনবারের চ্যাম্পিয়ন। বয়সভিত্তিক এই টুর্নামেন্টেও উত্তর কোরিয়া দুবারের চ্যাম্পিয়ন ও তিনবারের রানার্সআপ। আর বাংলাদেশ খেলছে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো। বাছাইপর্ব পেরিয়ে এবারই প্রথম। সেই শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সঙ্গে লড়াইয়ের সাহস দেখাচ্ছে কৃষ্ণা-সানজিদারা!

এই টুর্নামেন্টে খেলবে বলে এক বছর ধরে অনুশীলন করেছে মেয়েদের দল। সিঙ্গাপুর, জাপান, চীন, দক্ষিণ কোরিয়ায় খেলেছে একাধিক প্রস্তুতি ম্যাচ।

তারপরও বাংলাদেশ দলের কোচ গোলাম রব্বানী বললেন‘আমাদের বাস্তবতা বুঝতে হবে, কাদের সঙ্গে খেলতে যাচ্ছি।’ যদিও ফুটবলারদের অনুপ্রাণিত করার কাজটা ঠিকই করে যাচ্ছেন, ‘আমাদের মহিলা ফুটবলের জন্য এটা স্মরণীয় মুহূর্ত। মনে হচ্ছে যেন বিশ্বকাপে খেলতে নামছি। মেয়েরা খেলার জন্য মানসিকভাবে তৈরি।’

নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্যের চেয়ে ভালো খেলার দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন গোলাম রব্বানী, ‘ড্র করব নাকি জিতব, তা বলতে চাই না। বিশ্বের সেরা একটা দলের সঙ্গে খেলতে যাচ্ছি, আমাদের লক্ষ্যই থাকবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ উপহার দেওয়া। ভালো ফুটবল খেলা।’

ভালো ফুটবলের সংজ্ঞাটা গোলাম রব্বানীর কাছে অন্য রকম। মুখে সরাসরি কিছু বলতে চান না। কিন্তু মাঠে মেয়েদের কাছ থেকে পারফরম্যান্স বের করে আনেন। কয়েক বছর ধরে এই মেয়েরাই তাঁর কোচিংয়ে নেপালে ও তাজিকিস্তানে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছে। চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ঢাকায় এই টুর্নামেন্টের বাছাইপর্বেও। এরপর ভারতে সর্বশেষ মহিলা সাফেরও ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। যেখানে জাতীয় দলের মোড়কে খেলেছে এই দলেরই বেশির ভাগ মেয়ে। এখানেও বড় কিছুর স্বপ্ন থাকতেই পারে গোলাম রব্বানীর, তবে তাঁর মনে একটা ভয়ও কাজ করছে। নইলে কেন বলবেন, ‘আমাদের চেয়ে ওরা অনেক ওপরে। আমরা এই পর্যায়ে প্রথম ফুটবল খেলতে যাচ্ছি। ম্যাচের ফল বাজে হতেই পারে। কিন্তু খেলোয়াড়সুলভ মন নিয়ে দেশবাসী যেন তা মেনে নেয়। আমরা ওদের অনুপ্রাণিত করা ছাড়া অন্য কিছু বলতে চাই না।’

ম্যাচের ফল নিয়ে মোটেও ভাবছেন না মিসরাত জাহান। বরং উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে খেলতে তর সইছে না রংপুরের কিশোরীর, ‘আমরা খেলার জন্য প্রস্তুত। বিশ্বের সেরা দলের সঙ্গে খেলব, সেভাবেই প্রস্তুতি নেওয়ার চেষ্টা করেছি।’ অধিনায়ক কৃষ্ণা রানী সরকারও ভয় পাচ্ছে না কঠিন প্রতিপক্ষকে, ‘বড় দলের সঙ্গে খেলব, সেই চাপটা একদম নেই। কারণ আমরাও মেয়ে, ওরাও মেয়ে। ওদের সঙ্গে সমানতালে খেলার চেষ্টা করব। আমাদের ভেতরে স্বপ্ন আছে ভালো কিছু করার।’

স্বপ্নই বাংলাদেশের এই মেয়েদের এত দূর এনেছে। এবার তারা দাঁড়িয়ে সবচেয়ে বড় পরীক্ষার সামনে। বলতে পারেন, অগ্নিপরীক্ষা!

সূত্র: প্রথম আলো

 

Similar Articles

Leave a Reply