You are here
নীড়পাতা > নারীর অগ্রযাত্রা > অবসরে দেশের প্রথম নারী বিচারপতি

অবসরে দেশের প্রথম নারী বিচারপতি

অবসরে গেলেন দেশের প্রথম নারী বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা। আজ বৃহস্পতিবার ছিল তাঁর বিচারপতি জীবনের শেষ কর্মদিবস। আগামী ৭ জুলাই শুক্রবার শেষ হচ্ছে তাঁর বর্ণময় কর্মজীবন। সেদিন তার বয়স ৬৭ বছর পূর্ণ হবে। তবে দিনটি শুক্রবার (সাপ্তাহিক সরকারি ছুটি) হওয়ায় আজ বৃহস্পতিবারই হচ্ছে তার শেষ কর্মদিবস।

দেশের প্রথম নারী বিচারক হিসেবে নাজমুন আরা সুলতানা জেলা জজ আদালতে এবং পরে বিচারপতি হিসেবে হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের দায়িত্ব পরিচালনা করেছেন। তাই তিনি শুধু উচ্চ আদালতেরই প্রথম নারী বিচারপতি ছিলেন না। স্বাধীন বাংলাদেশের বিচার বিভাগে তিনিই ছিলেন প্রথম নারী বিচারক।

নাজমুন আরা সুলতানা ২০১১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারপতি হিসেবে প্রথমবারের মতো নিয়োগপ্রাপ্ত হন । যুক্তরাষ্ট্রের সান্ড্রা ডে ও’কন্নোর, ব্রিটেনের লেডি ডেম ব্রেন্ডা হেল, ভারতের ফাতিমা বিবির পরে তিনি হচ্ছেন সর্বোচ্চ আদালতের চতুর্থ নারী বিচারপতি।

তাঁর বিদায় উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) আপিল বিভাগের এক নম্বর বেঞ্চে, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় ও আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানাকে বিদায় সংবর্ধনা জানানো হবে। এরপর বিকেলে বিচারপতিদের পক্ষ থেকে জাজেস লাউঞ্জে তাকে সংবর্ধনা জানানো হবে।

সুপ্রিম কোর্ট থেকে পাওয়া তথ্য মতে, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা ১৯৫০ সালের ৮ জুলাই মৌলভীবাজারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা চৌধুরী আবুল কাশেম মইনুদ্দিন। মা বেগম রাশিদা সুলতানা দ্বীন। বাবা-মা দু’জনই প্রয়াত। মা ছিলেন ময়মনসিংহ রাধাসুন্দরী গার্লস হাইস্কুলের শিক্ষিকা। এ কারণে তার শৈশব কেটেছে ময়মনসিংহে। সেখানেই বেড়ে ওঠা। শিক্ষাজীবনও কেটেছে ময়মনসিংহেই।

তিনি ময়মনসিংহ সদরের বিদ্যাময়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬৫ সালে মেট্রিকুলেশন, ১৯৬৭ সালে মুমিনুন্নেসা উইমেনস কলেজ থেকে আইএ পাস করেন। তিনি ১৯৬৯ সালে আনন্দ মোহন কলেজ থেকে বিএসসি পাস করার পর ময়মনসিংহ ল’কলেজ থেকে ১৯৭২ সালে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ওই বছরের জুলাইয়ে তিনি ময়মনসিংহ জেলা আদালতে আইনজীবী হিসেবে আইন পেশায় পা রাখেন।

তার স্বামী কাজী নুরুল হক। দুই ছেলে সন্তানের মা তিনি। বড় ছেলে কাজী সানাউল হক উপল থাকেন অস্ট্রেলিয়া। ছোট ছেলে এহসানুল হক সূর্য।

বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা ১৯৭৫ সালের ২০ ডিসেম্বর মুনসেফ হিসেবে (সহকারী জজ) নিয়োগ পান। তখন পর্যন্ত তিনিই ছিলেন দেশের প্রথম নারী বিচারক। এরপর ১৯৯০ সালের ২০ ডিসেম্বর জেলা জজ হিসেবে পদোন্নতি পান। এখানেও তিনিই প্রথম নারী জেলা জজ ছিলেন। পরবর্তীতে কর্মদক্ষতার কারণেই নিম্ন আদালত থেকে ধীরে ধীরে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে পা রেখেছেন।

এরপর ২০০০ সালের ২৮ মে তিনি হাইকোর্টে অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। এর দুই বছর পর ২০০২ সালের ২৮ মে হাইকোর্টে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। ২০১১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগে প্রথম নারী বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন।

নারী বিচারকদের সংগঠন বাংলাদেশ উইমেন জাজেস অ্যাসোসিয়েশনের (বিডব্লিউজেএ) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন তিনি। আন্তর্জাতিক নারী আইনজীবী সংস্থায় দুইবার সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ভারত, নেপাল, থাইল্যান্ড, ইতালি, জাপান, আমেরিকা, চীন, ইরান, ইরাক, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ড, পানামা, হংকং সফর করেন।

বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা ফতোয়া বিষয়ক মামলা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সেনানিবাসের বাড়ির মামলা, চারদলীয় জোট সরকার আমলে বাদপড়া ১০ বিচারপতির মামলা, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার সম্বলিত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী, উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণ বিষয়ক সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী মামলাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মামলায় বিচারকের দায়িত্বে ছিলেন।

সূত্র : সিলেটটুডে২৪, প্রথম আলো, সমকাল

Similar Articles

Leave a Reply